ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের বাজারে ভাঙছে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন
জ্বালানি তেলের বাজারে ভাঙছে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ফাইল ছবি
জ্বালানি তেলের বাজার আংশিক উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সীমিত পরিসরে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি, বিতরণ ও খুচরা বাজারজাতের সুযোগ দেওয়ার নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে সংকটকালেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এক প্রতিবেদনে জানায়, সীমিত পরিসরে বেসরকারি খাতকে পেট্রোলিয়াম ব্যবসায় যুক্ত করার নীতিমালা থাকা উচিত। তবে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালা কার্যকর হলে দেশে জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিদ্যমান অবকাঠামো ও বিনিয়োগও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় ধরনের জ্বালানি তেলের বড় অংশ আমদানি করে বিপিসি। ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল ও অকটেনের মতো পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটিরই প্রধান ভূমিকা রয়েছে।

তবে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ও আমদানি করা কনডেনসেট ও ন্যাফথা ব্যবহার করে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সুপার পেট্রোকেমিক্যালস, পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি ও অ্যাকুয়া রিফাইনারি। উৎপাদিত জ্বালানি তারা বিপিসির কাছে বিক্রি করে। সরাসরি খুচরা পর্যায়ে এসব পণ্য বিক্রির অনুমতি তাদের নেই।
এ ছাড়া বেসরকারি মালিকানাধীন ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সরাসরি ফার্নেস অয়েল আমদানি করে থাকে।

বর্তমান ব্যবস্থায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল পেট্রল পাম্পসহ বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে বিতরণ ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

দীর্ঘদিনের এ একচেটিয়া ব্যবস্থার কারণে তেল চুরি, পাচার ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হলে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমবে। এতে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিপিসির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হাতে দেওয়া যেতে পারে। স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণের পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম বলেন, সরকার চাইলে পেট্রোলিয়াম খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে। তবে বাজার উন্মুক্ত করার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নজরদারি থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতই জ্বালানি তেল আমদানি, বিতরণ ও খুচরা বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত।

বর্তমানে বাংলাদেশে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত মিলিয়ে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টন ডিজেল, ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল এবং বাকি ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল ও অকটেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি খাতের অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপও রয়েছে।

তবে বেসরকারি খাতকে কী পরিমাণ অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, আমদানি ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং মূল্য নির্ধারণ কীভাবে হবে এসব বিষয় নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর স্পষ্ট হবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ